প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ স্বামী গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  নোয়াখালীর হাতিয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার মূল আসামি স্বামী মো. মিলন (৪০) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজুকে (৩০) চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আজ  সকালে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে র‍্যাব-১১ নোয়াখালী ও র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ছোটপুল এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মো. মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে বড়পুল মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে নিহত নারীর সঙ্গে মো. মিলনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মিলন ভরণপোষণ না দিয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও ভিকটিম কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি।

গত ১২ মার্চ সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের আলআমিন গ্রামে নিজ বাড়িতে পারিবারিক তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মো. মিলন তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে তাকে স্থানীয় আবুসায়েদ বাজারের একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সারাদেশে খাল খননে বড় ধরনের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

» পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

» প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ স্বামী গ্রেপ্তার

» জাবি শিক্ষার্থী রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

» লাই হত্যাযজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে আনা হলো সাবেক এমপি ফজলে করিমকে

» দেশের রাজনীতিতে আ. লীগের উপস্থিতি অনিবার্য ও অপরিহার্য : রনি

» এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী

» রাশেদ যদি দলে ফিরতে চায়, আমরা ওয়েলকাম করব: নুর

» সুন্দর ভোট হলে আপত্তি ওঠে ভোট হওয়ার পরে: সিইসি

» কানাডায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, দ্বিতীয় স্ত্রীসহ স্বামী গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  নোয়াখালীর হাতিয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার মূল আসামি স্বামী মো. মিলন (৪০) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজুকে (৩০) চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আজ  সকালে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে র‍্যাব-১১ নোয়াখালী ও র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ছোটপুল এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মো. মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে বড়পুল মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাহেদা আক্তার লাইজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে নিহত নারীর সঙ্গে মো. মিলনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মিলন ভরণপোষণ না দিয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও ভিকটিম কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি।

গত ১২ মার্চ সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের আলআমিন গ্রামে নিজ বাড়িতে পারিবারিক তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মো. মিলন তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে তাকে স্থানীয় আবুসায়েদ বাজারের একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com